Skip to main content

Posts

Showing posts from April, 2024

খুঁজে ফেরা

আমার দিন আর ফুরাবেনা।  আমার খোঁজার আর শেষ হবেনা । নীল শূন্যে আর নদীর ধারে।  অরণ্যে আর পাহাড়ে ।  কোন সে বাউল পথের ধারে।  শান্তভাবে তরুর ছায়ে । একতারাতে কোন সুর তোলে । গেয়ে যায় তার গান।  ও কাকে শোনায় রাত্রি শেষের গান  জীবন মরুতে । যে পথ হারিয়েছে|  দুই দ্বীপেতে  দুইজন থাকে আর মিটিমিটি চায়|  কত কিছু যে ভেবে মোরে ভাবে বিভোর হয়ে যায়|  মাঝে বিচ্ছেদের নোনা জল|  গভীর অতল|  ঢেউয়ের পর ঢেউ আসে| আছড়ে পরে জীবন তটে|  দিন পার হয় কাল পার হয় আমি সরে যাই দূরে|  বহু দূরে সংসারের ছায়া হতে সংসারের মায়া হতে|

আলোর তরে

মুক্ত করো কারাগার হতে।  জঞ্জলের স্তুপ হতে । পাগলা গারদ ময় সংসার হতে । বিকৃত চিন্তা হতে । মন কেঁদে মরে শিশুর মতো তোমার তরে।   জগত রঙ্গমঞ্চে । মিথ্যা কলরবে। জগত রঙ্গমঞ্চে মিথ্যা আড়ম্বরে ।  সুরহীন ছন্দহীন ক্লান্ত বিচরণে  হায় পথ হারা।  কবে মিলবে তোমার দ্বিধারা । কবে হবে দ্বিধার অবসান । মিলবে কবে শান্তির সন্ধান।  কবে নিভবে মনের আগুন।  কবে আসবে ফাগুন ।

মহামানব

মৌন কেন হে মহামানব কোথায় তোমার বাণী , শেষ কি সব আশা।  মহামানব মৌন কেন কোথায় তোমার ভাষা।  হে মহামানব দুঃখের দিনে  কে দেখালো।  তোমায় সোনালী আশার আলো।  হে মহামানব দহন দিনে কে মেটালো তোমার প্রাণের আশা| কে আনিল শীতলতা কে দিল কোমলতা । কেমনে ঘোচালে আবরণ কেমনে হলো বিকশিত।  যেদিন উঠবে তুমি যেদিন জাগবে তুমি যেদিন হিসেব হবে শেষ।  যেদিন বলবে তুমি যে দিনে গাইবে তুমি তোমার সকল বলা শেষ।  জীবন গেল বেচাকেনা আর হিসেব কষে।  যোগ বিয়োগার গুণ ভাগের হিসাব বেলা শেষে।  পথের পানে চেয়ে থাকো আপন মনে রিক্ত হাতে শূন্য হাতে কাঙাল হয়ে পথের ধারে যেন সবকিছুই শেষ।

নতুন আশা

আমি ক্লান্ত দিক হারিয়ে| হাতড়িয়ে মরি অন্ধকার গলিতে ঘুরে ঘুরে।  তুমি হাত বাড়াও।  আমার মুখ ফেরাও আমার গতি ঘোরাও।  অসৎ হতে সতের তরে।   তিমির হতে আলোর তরে।  আমার জীবন তরী কান্ডারী রূপে তোমায় আমি চাই । তোমার বাণী নয় শুধু তোমাকেই চাই,তোমার কথা নয় তোমার সুর চাই । হে রুদ্র দেখাও তোমার প্রসন্ন রূপ আজি এ  দিনে তিমির আধারে।  আমার ভক্তি পুষ্পাঞ্জলী নাও তব চরণে আমায় বাধো তব বন্ধনে । রক্ষা করো ঝঞ্ঝা হতে।  সকল ক্লান্তি হরণে । দেখতে দিও সদা হাস্যে।  তোমার প্রসন্ন রূপটিকে। তুমি মুছিয়ে দিও এদু নয়ন তোমার আঁচল দিয়ে।  তুমি নিয়ে যাও মোরে তোমার ভুবনে হাত দুখানি ধরে।

স্বর্গ দ্বার

মৃদু মৃদু ছন্দে । নিত্য আনন্দে । শান্ত বিচরণে । স্বর্গের দ্বারে দ্বারে।  যেথা পাখির কলতান ছিল সংগীত সুমধুর।  নদীর তরঙ্গ।  আনন্দরঙ্গ।  পুষ্প বনে । নিরব পদক্ষেপে।  উর্ধ্ব পানে নীল আকাশে ।  নিলিপ্ত নয়ন।  জীবন সুধা করে পান। গায় অমৃতের গান । নিরব মনপ্রাণ।  বিরত আত্ম প্রচারে । বাচালতাহীন বিকারবিহীন শুদ্ধ অন্তরে।

আশার বাণী

কে চলে যায় শুকনো পাতার উপর দিয়ে।  আপন মনের সুর বাজিয়ে । প্রভাত বেলায় যায় গিয়ে ওই সাঁঝের বেলার গান।  বসন্তে যায় গেয়ে ওই ঝরা পাতার গান । ফুল ফোটানোর দিনে কুড়ি ঝরানোর গান।  ও কোন শুকনো কুড়িয়ে দেখতে পেয়েছে  ঝরে পড়া শুকনো পাতার সাথে।  আলো ফোটার আগে প্রভাত সূর্যের সাথে হয়নি মিলন ঝরেছে নিশীথে।  কিন্তু আবার আসবে শ্রাবণ অমৃত বারির বার্তা নিয়ে।  শুকনো ডালে  প্রাণ ফিরবে।  আবার আসবে সবুজ ,আবার আসবে নতুন কুঁড়ি  ও কুরি মিলবে আঁখি নীল গগনে।  খেলবে ভ্রমরের সাথে । বাতাসে ছড়াবে আপন মাধুরী আলোর সাথে হাসবে।  সবুজের সাথে মিশবে।  পাতার সাথে খেলবে । হাওয়ার সুরে গাইবে নিরবে সুন্দরের গান

মুক্তির দূত

ও পাখি আসছে ও পাখি ভাসছে । অনন্তকাল ধরে মুক্তির সমাচার বয়ে ও পাখি আসছে।  ও পাখি ভাংছে খাঁচা, মেলছে ডানা ও আসছে ও ভাসছে।  সত্য শিব সুন্দরের বার্তা নিয়ে ও আসছে ও ভাসছে।  আলোর বার্তা নিয়ে আসছে ও আসছে । দুঃখ রজনী নাশের বার্তা নিয়ে ও আসছে ও আসছে।  বহু প্রতিক্ষার অবসানে, ও আসছে ও ভাসছে।  অনন্তের দূত হয়ে ও আসছে ও ভাসছে।  অজানার ওপার হতে ও আসছে ও ভাসছে।  অভয় বাণীর মন্ত্র নিয়ে আসছে ও ভাসছে | নয়া প্রভাতের অতিথি হয়ে ও আসছে ও ভাসছে|

আশার কথা

ভব নদীর দুই পারেতে দুই ভবনে । একপার ছিল সংসারে অপর পার অজানার পারে।  জীবন পথের যাত্রী যত।  বয়ে চলে অবিরত । বিরামহীন সঙ্গীহীন ।  সামনে-পেছনে চেয়ে নিশিদিন । এবারের কলরব শান্ত হলে । ওপারে আশার প্রদীপ জলে । তাই ঈশান কোণের আকাশ নিমেষে কোথা হতে। আলোয় আলোয় উঠল ভরে । তাই তরুতে কম্পন, বাতাসের স্পন্দন, আনন্দ আহ্বান । শতযুগ সঞ্চিত অন্ধকারে একাকী ভাবে ফেলে আপনারে আপনারই অপমান।

হারানো বিলাপ

তুমি মুছিয়ে দিও এ দুনয়ন তোমার আঁচল দিয়ে।  তুমি নিয়ে যাও মোরে তোমার ভুবনে হাত দুখানি ধরে।  হৃদয়ের মোর সকল ভালোবাসা ঝরে পড়ুক তোমার চরণে।  ভক্তি ধারার মতো হৃদয়ের মোর সকল সুর ভেসে চলুক তোমার বাণী বয়ে।  শীতল করো এ প্রাণ তোমার আশীর্বাদে।  নির্মল হোক জীবন তোমার ধারাতে।  জড়াতে দিওনা আমায় তুচ্ছ তর্ক বিবাদে।  তুমি কি শুধু মনের ভুল তুমি কি শুধু কল্পনা।  তুমি আবছা স্নেহ ছায়া তুমি কি মধুর বেদনা।  কবে কোন খানে চলে গেছো? কিছু না বলে। হারিয়ে গেলে ভুলিয়ে দিলে।

অজানা পথিক

কে বাজায় বাঁশি বিরামহীন অন্তহীন যুগ যুগান্ত ধরে।  তার বাঁশির টানে মন হয় উতলা । এগিয়ে চলি স্থির পদক্ষেপে সব কাটা দলে।  রক্তমাখা পায়ে শুকনো বনের ভেতর দিয়ে । শুকনো পাতার উপর দিয়ে।  পুষ্পবিহীন পত্রবিহীন ধূসর প্রান্তরে । যুগ যুগান্তরে বহমান স্বর্গ নদীর ধারা । ও যে প্রাণের ধারা।  ঈশ্বরের আশীর্বাদ । শৃংখল  ধ্বনী মিলিয়ে যায়।  নূতন দিনের আলোয়| হৃদয়ের কোন  উত্তাল  রসসাগরে । আনন্দ ঢেউ পড়ে আছড়ে।

মনের হরিণ

আমার মনের বনে কোন সে কোনে।  ছায়ার হরিণ ছুটে চলে।  সকল বাধা দুপাশে ঠেলে।  বাধা মানে না ,মানা শোনে না । শূন্য বনে আলো ছায়া ভেদ করে।  আপন মনে ছুটে চলে । আমার মনের গহনে বনে।   তরু তলে কে বাজায় বাঁশি বেদনার সুরে।  অলস দুপুরে।  সব সুর ছাপিয়ে, দুকুল ভাসিয়ে ‌। তারে দেখিতে পাই না তাকে বুঝিতে পারিনা।  শুধু বাঁশির সুর পেয়েছি শুনিতে।  ও কি সব ছেড়েছে।  ও কি সব ফেলেছে । আজ  ব্যস্ত জীবনে ,কোন বিরহের সুর বাজে।  কোন শূন্যতা কোন ব্যথা? । সব হারিয়ে সব ছাড়িয়ে । অজানার পরে কি খোঁজে । অজানা সাগর পারে । কাঙাল হয়ে  শূন্য হাতে রিক্ত হয়ে।  বেদনা ধারায় সিক্ত হয়ে

অমৃত সরোবরে

ডুবি অমৃত সরোবরে। মনের কালিমা ধুতে। প্রানের আশায় জীবনের আশায়।  ডুবি অমৃত সরোবরে । দিয়ে নিদ্রা স্বপ্ন বিসর্জন।  ডুবি অমৃত সরোবরে । আলোর আশায় গতির আশায়।  ডুবি অমৃত সরোবরে । দেহ মনের সংযমে  ডুবি অমৃত সরোবরে ।  রিপুরে করি বশীভূত । ডুবি অমৃত সরোবরে ।  হাওয়ায় ভাসে বেদনার সুর। অশ্রু ঝরে নয়নে।  দিন পার হয় কাল পার হয় আকাশ কুসুম চয়নে। মনোদর্পণ করে নির্মল । ষড়রিপুরে দিয়ে বিসর্জন । আলোর ধারায় ধুয়ে মনের কালিমা যত।  ডুবি অমৃত সরোবরে।

এগিয়ে চলা

ছন্দে ছন্দে দুলতে দুলতে। ভাঙ্গা শরীর মনে ঢুলতে ঢুলতে।  দিন পার করে কাল পার করে।  দু পায়ে কাটা মলতে মলতে।  যাচ্ছি কোথায় যাব কোথায়?।  ঠিকানাহীন কোন সে দেশে।  অমৃত সরোবরে কে যায় ডুব দিতে।  জীবন মরু পেরিয়ে । চোখে ছিল ভয় । লাজ সংশয় । দ্বিধাদ্বন্দ্ব দু পায়ে ঠেলে । পথের কাঁটা দু পায়ে দলে।  ভক্তি পদ্ম তুলতে গেল যে।  পদ্ম কুঁড়ি দেখতে পেল যে । ডাক পেয়েছে যেতেই হবে।  সকল বাধা তুচ্ছ করে । সকল কাঁটা দু পায়ে দলে। সব কাজ আজ  দুপাশে ফেলে । বিষয়ভার নামিয়ে । ক্লান্ত যাত্রা থামিয়ে।

প্রার্থনা

আমার হাত দুখানি ধরে আমার মুখখানি তোমার দিকে ফেরাও । কালিমা লিপ্ত এ মন খানি বিষন্নভাবে দেখে সংসার খানি , তুমি তোমার দয়া দিয়ে তোমার দিকে ঘোরাও। জঞ্জালময়ে সংসারে মিথ্যা কোলাহলে।   বারেবারে আশায় আশে শূন্য হাতে ফিরে।  না পায় খুঁজে সার না পায় তল।  অন্ধকার গলি শুধু বিষন্ন দেহ মন।  মুখে শুধু তোমার কথা । কণ্ঠে তোমার গান।  হৃদয়ে মোর সকল ভালবাসা ঝরে পড়ুক তোমার চরণে ভক্তি ধারার মতো।  হৃদয়ে মোর সকল সুর ভেসে চলুক তোমার বাণী বয়ে । ঘুমিয়ে আমার চিত্তে।  যুগ যুগান্তর ধরে । আমি হতে বহু দূরে । কোন অজানার পারে । কাছে এসেও আসো না । ভালোবেসেও বাসো না । দেখা দিয়ে যাও লুকিয়ে । কোথায় তুমি যাও হারিয়ে।

অমৃত তরঙ্গ

যুগ যুগান্ত ধরে বহমান অমৃত ঝর্ণা। শূন্য হতে সাগরে।  শ্যামল হতে নীলিমায় । পাহাড় চূড়া স্পর্শকরে  অমৃত তরঙ্গ আকাশে মিলায়।। আমি পড়ে আছিঅন্ধকার কোণে  দ্বিধার সংশয় লাজে  অন্ধকারের কিট হয়ে  নিশাচর পাখি হয়ে  এক পা এগিয়ে পেছনে তাকাই। ভয়ে আবার দুপা পিছিয়ে যাই ।  স্বপ্ন আবার অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।  এই সেই ঝর্ণা তলায় এসো আজ আলোর মেলায়। 

পাখি

কোন পাখি তার গান হারালো । কোন পাখি তার সুর হারালো । গান হারিয়ে সুর হারিয়ে । ঝড়ের মুখে ডানা ঝাপটে । মরে কোন সে দুঃখে । ও পাখি বসে  অন্ধকারে  বসে থাকে সাথীহারা হয়ে । ওকি আলো হারালো ভোর হারালো। হারালো তার আকাশ ।ও কি ভাষা হারালো।  বন হারালো সোনার খাঁচায় বন্দি হলো । ও যে ভেসে গেল অতল সাগরে।  ও যে হারিয়ে গেল কালো আঁধারে, । ও যে কুল পেলো না ও যে মুল পেলো না।  ও রে ডুবে গেল কামনার ভারে। ও যে মিলিয়ে গেল অতল আঁধারে।

কথামালা

যেদিন এসেছিলাম এ পৃথিবীতে ক্ষুদ্র পদক্ষেপে।  চোখ যাবে মেলে ছিলাম আলোর বাসনা নিয়ে।  শুরু হল সেই পথচলা।  ধীরে ধীরে বয়ে যায় বেলা।  গাঁথি বসিয়া কথামালা । সোজা পথ গেল বেঁকে।  অন্ধকারের দিকে।  সংসার আপন খেয়ালে শেখালো তার ভাষা।  কাজের ভাষা ,ব্যবসার ভাষা।  আমার আকাশ ছোট হলো । আমার সবুজ ফিকে হল।  আমার সাগর ডোবা হল । আমার সাদা ,কালো হলো।  আশা আমার শূন্যে ভাসে স্বপ্ন মেলায় দিগন্তে।  সাদা মেঘের ভেলা টানে কোন অজানার ওপারে।  বহু যুগের আগে কোন সে ক্ষণে। ঘুরে আপন মনে । সবুজ হয়ে শ্যামল হয়ে ।  নীল হয়ে আকাশ হয়ে। বাসা হীন ঠিকানা বিহীন পথে । অন্তহীন কোন সে যাত্রা পথে । দু চোখে আলোর কাজল মেখে । থাকতো শুয়ে সমুদ্র তট হয়ে।  ঢেউয়ের সাথে খেলতো আপন মনে । ফুলের আবির ছড়াতো বনে বনে।  হঠাৎ কোন সে দুর্দিনে আমির ভরে গেল নিচে পড়ে । তার ঝরনা গেল শুকিয়ে । তার সাগর গেল শুকিয়ে।

মুক্তির গান

মুক্ত কর সংশয় হতে।  মুক্ত করো দ্বিধা হতে । দ্বিধাসংশয় কাটিয়ে মনেরে । স্থাপন কর সত্যের মুখে । মুক্ত করো ভয় হতে । মুক্ত করো লজ্জা হতে । নয়ন আমার দাও আলোর পানে ।  দুহাত দিয়ে যত আবর্জনা সরায়ে । চলেছি জানিনা কোন দিকে।  অশান্ত মনপূস্করিনী বিক্ষুব্ধ তরঙ্গমালা । মোহের আবরণে তীব্র জীবন জ্বালা । সংকোচের শীতলতা । শুকনো মনলতা।  জীবনভেলা ডুবিয়ে সংসারের আবিলতা।  বিষয় হতে বিষয়ান্তরে পাগলের মত ঘুরে মরে।  অন্ধকারে হাতড়ে মরে , সত্যি ভাবে স্বপ্নটারে।

অজানা পথে

কার মন আজ হলো যে নীল মানুষের বিষে।  কাকে এ সংসার নির্মম ভাবে মারে পিষে।  কে আজ হল ব্যাকুল সব হারানোর ব্যথায়।  কে আজ হলো কাঙাল অসীম শূন্যতায়।  ক্ষণিকের দেখা দিয়ে কোথায় হারিয়ে যাও। আমারে কোন দিশাহীন অন্ধকারে । মনকে করে ব্যাকুল লুকিয়ে যাও ভাষা হীন ভাবে প্রার্থনা মোর আলোর তরে । চিরপিপাসিত কামনা হায় । আঁধারে টেনে নিয়ে যায়। ক্লান্ত মনে দাঁড়িয়ে আঁধার সমুদ্রের ধারে । আশার সূর্য উদিত হবে অভয় বাণী নিয়ে।  মন তরঙ্গ ওঠে আর পরে চলে অনন্তের পানে।  নির্লিপ্ত নয়ন তাকিয়ে থাকে নীল আকাশের পানে।

আলোর পথিক

ওগো কোন পথিক তুমি চলেছ অন্ধকার সরণি ধরে।  যুগ যুগান্ত ধরে জন্ম হতে জন্মান্তরে।  অসহায় ভাবে শত আঘাত সহ্য করে । শত বিভ্রান্তিতে । শত ক্লান্তিতে।  নিকষ আঁধারে টলমলিয়ে । আঁধার সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে । ঐ কোন সুদূর ঐ ঈশান কোণের শান্ত তপোবনে।   কার হৃদয় আজ হল উদ্ভাসিত জ্যোতি তরঙ্গে।  আজ কার হৃদয় আলোর বন্যা ছড়ায় দূরে দূরে। শান্ত ছায়ে ফুলে ভরা ওই তরুর  তলে । তাকিয়ে থাকে পূব গগন তলে।  তাহলে কি হলো তার সকল ব্যাথার নীরব অবসান।  সব ভুলিয়ে সবমিলিয়ে আজ ঐ দুনয়ন খুলল আলোর ভাবে । মায়ার কুয়াশা হলো বিলীন। সব অবসানে।

আলোর বন্যা

আজ কোন আকাশে আলোর বন্যা ছুটল আপন বেগে । কোন ভুবনে মাতলো বাতাস আলোর নেশাতে ।  কে আজ হল চঞ্চল আলোর ব্যাকুলতায়। আজ কার হৃদয়ে ওই আলোর ঢাকনা খুললো আপন জ্যোতিতে।  আলোর আবির মেখে দুই নয়নে উঠল ভেসে অনন্তে ।  কার হৃদয় আজ হলো রঙ্গিন রামধনুর ওই সাত রঙে। কার হৃদয় মেলালো সুর মুক্তির মোহন বাঁশিতে।   সকল আঁধার শেষে অশ্রু সাগর পাড়ে কোন সে নাবিক উঠলো গিয়ে দুঃখ শেষের দেশে।  কামনার ঘোরে অন্ধকারে । সোনার খাঁচার অহংকারে । আপন পরিচয় ভুলিয়ে । নিজেকে ঐ ভুল বুঝিয়ে। আপনার ক্রোধে দগ্ধ হয়ে।  কোন সে মোহের শৃংখলে । আজ কি শুনলো পেতে কান ।  অন্ধকার পাহাড়ের ওপারের আহ্বান।

জীবন সমুদ্র

এ জীবন ভেসে চলে জীবন সমুদ্রে । কত হেলে দুলে মরণের পাড়ে। কত সূর্যোদয় কত সূর্যাস্তের নীরব সাক্ষী হয়ে।  দুঃখ সুখের ভেলায়  চড়ে অনন্তের দিকে।  জাগোরে ভোগী স্বপ্ন হতে দাড়াও হে ত্যাগী ঝড়ের সম্মুখে। ওঠো হে ত্যাগী, ওঠো হে যোগী স্বপ্ন হতে জাগোরে।  বেলা যে বয়ে যায় আজ সময় আর নাহিরে।  কামনার ঘোরে অন্ধকারে খুঁজে ফেরো আপনারে।  নাম ভোলা কোন পথিক তুমি এলে সংসার পথে।  মরীচিকার পিছে পিছে।  ঘুরে কেন মর মিছে । বারবার ঘুরে ফের জমাট বাধা অন্ধকারে । আজ বহু কঠিন পথ পার করে নিজে মনকে নিয়ে চলো নিজ নিকেতনে।

তোমায় দেখেছি

তোমায় দেখেছি কৃষ্ণচূড়ার লালে।  তোমায় দেখেছি সাগর নীলে।  তোমায় দেখেছি সবুজ পাতার সাজে । তোমায় খুঁজেছি শিশুর হাসিতে।  তোমায় খুজেছি শরৎ মেঘের ভেলায়।  তোমায় দেখেছি পূর্ণিমার জোছনায়।  তোমায় দেখেছি দিগন্তের শেষে।  নীল সবুজ যেথায় গিয়ে মেশে।  তোমায় খুঁজেছি পূর্ণিমার মধুর প্রেমালাপে।  শেষ রাতের পূর্ণিমা আর রজনীগন্ধার মধুর সংলাপে।